স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া ১০-১২ বছর বিলম্বিত করার দাবি জানিয়েছে সোসাইটি ফর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজ (এসআইআইপিএস)। গত ২২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এক চিঠির মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল পিআইবি সেমিনার কক্ষে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বাংলাদেশের জন্য বাধা কোথায়? শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংক তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার আগেই ২০২২ সালে বা ট্রিপস চুক্তি কার্যকর হওয়া ছাড়াই, বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন কাজের বিভিন্ন বিদেশী মেধাস্বত্ব ব্যবহার করতে, দেশীয় শিল্প ও গবেষণা ২০২২ সালে ৪৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ও ২০২১ সালে ৬০ মিলিয়ন ডলার বিদেশী মেধাস্বত্ব রয়্যালটি স্বরূপ পাঠিয়েছে। মেধাস্বত্ব অর্জনে তথ্য, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণা প্রসার করে দেশের গবেষণা, উৎপাদন ও উদ্ভাবন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে শিল্পায়নের বিকাশ ঘটাতে হলে মেধাস্বত্ব অধিকার লাগামছাড়া দিলে তার রেশ দেশের সামগ্রিক উৎপাদনসহ সর্বক্ষেত্রে পড়বে। এছাড়া বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক, জলবায়ু বিপর্যয়, মানব উন্নয়ন সূচক অবস্থা উন্নয়নশীল হওয়ার জন্য মোটেও অনুকূল নয়। উন্নয়নশীল হওয়ার পর ট্রিপস কার্যকর হলে দেশের অনেক খাতের মধ্যে মৌলিক তিনটি খাতে কী বিরূপ প্রভাব পড়বে। এগুলো হলো শিক্ষা ও গবেষণা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এবং পরিবেশ, জলবায়ু ও কৃষি খাত।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প উৎপাদনে ব্যয়ভার বাড়বে। আর সরকার ব্যতীত বেসরকারি কোনো গবেষণা ও উন্নয়ন মেধাস্বত্ব দ্বারা সুরক্ষিত পণ্য বা প্রযুক্তি তথ্য ব্যবহার করতে চায় তাহলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে প্রভাব প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, ওষুধ শিল্পে খরচ বাড়ার কারণে সরাসরি দেশের জনগণ, ভোক্তা ও রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশীয় উৎপাদন ও ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় মহামারী কভিডে মৃত্যুহার, দেশের অর্থনীতি, শিল্পে কী প্রভাব এনেছিল তা ছিল স্বল্পস্থায়ী। ট্রিপস চুক্তি কার্যকর হলে এর দীর্ঘস্থায়ী পরিণাম ভোগ করতে হতে পারে। এছাড়া চিঠিতে পরিবেশ, জলবায়ু ও কৃষি খাতে প্রভাব প্রসঙ্গেও বিস্তারিত বলা হয়েছে।